pruduct banner

প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ে প্রাণ-আরএফএলের আমদানি সাশ্রয় ৪শ কোটি টাকা

প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ে প্রাণ-আরএফএলের আমদানি সাশ্রয় ৪শ কোটি টাকা

Published on: 12th September, 2021

পরিবেশের সুরক্ষায় প্লাস্টিকপণ্য পুনঃব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ে জোর দিচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএল। দেশের ১০টি স্থান থেকে ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সংগৃহীত প্লাস্টিক গুঁড়া করে পাঠানো হচ্ছে তিনটি রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে। প্ল্যান্টগুলোতে প্লাস্টিকের গুঁড়া পরিষ্কার করে স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে কয়েকটি ধাপে তৈরি করা হচ্ছে প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল রেজিন। সেই রেজিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে নন-ফুড আইটেমের একশ ধরনের পণ্য। যার মধ্যে প্লাস্টিকের বালতি, চেয়ার, বেলচা, ফুলের টব অন্যতম। প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ে প্রাণ-আরএফএলের আমদানি সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে প্রাণ-আরএফএল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের একটি রিসাইক্লিং ইউনিট ঘুরে দেখা যায় পুরো প্রক্রিয়া। যেখানে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বা পাতলা পলিথিন থেকে তৈরি হচ্ছে রেজিন। আবার ব্যবহৃত প্লাস্টিকের গুঁড়া থেকে তৈরি হচ্ছে নতুন পণ্য।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের একটি কারখানায় শুধু পুরোনো প্লাস্টিকের রেজিন ব্যবহার করে নতুন প্লাস্টিক পণ্য তৈরি হচ্ছে। মোট সাতটি প্রোডাকশন লাইনে দুই শিফটে সাতশ শ্রমিক কাজ করছেন। যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।

আরএফএল রিসাইক্লিং প্রকল্পের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকপণ্য রিসাইক্লিং করছে। এ খাতে এখন পর্যন্ত মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই হাজার মানুষ সরাসরি কাজ করছে। এছাড়া পুরোনো প্লাস্টিক সংগ্রহকারী, বিক্রেতাসহ মোট চার হাজার মানুষের পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে এতে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাণ-আরএফএল বছরে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ‘ব্যবহৃত প্লাস্টিক’ সংগ্রহ করছে। এখান থেকে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন কাঁচামাল উৎপন্ন হয়। যার আমদানি মূল্য প্রায় চারশ কোটি টাকা।

মোহাম্মদ কামরুল বলেন, পিইটি, এইচডিপিই, এলডিপিই, পিপি, পিভিসি, পিএস ও এবিএস প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিলার, প্লাস্টিক সংগ্রহকারী, ভাঙারি ব্যবসায়ী, প্লাস্টিকপণ্যের কারখানা ও ডিপো থেকে ব্যবহৃত প্লাস্টিকপণ্য সংগ্রহ করা হয়। মানভেদে দাম পড়ে কেজিপ্রতি ৬০-৭০ টাকা। আপাতত সব বিভাগীয় শহরে ব্যবহৃত প্লাস্টিকপণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা আছে। শিগগির নতুন ১০টি সংগ্রহ কেন্দ্র তৈরি করা হবে। আগামীতে সব জেলা থেকে পুরোনো ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহের পরিকল্পনা আছে প্রাণ-আরএফএলের।

বর্তমানে গ্রুপটি তার মোট প্লাস্টিক ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ রিসাইক্লিং করছে বলে জানান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে এটা ২০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। রিসাইক্লিং প্লাস্টিক যে দামে বিক্রি করা হবে, সেখান থেকে দুই টাকা করে সিএসআর খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি আমরা। এ টাকা দিয়ে পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করা হবে।

জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় চার হাজার প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২০ লাখের বেশি শ্রমিক। দেশে প্রতি বছর ২৪ লাখ টন প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়। বছরে মাথাপিছু ব্যবহার প্রায় ১৫ কেজি।

 

 

News and Events

12th September, 2021

পরিবেশের সুরক্ষায় প্লাস্টিকপণ্য পুনঃব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ে জোর দিচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয়... read more

12th September, 2021

Collecting about 30,000 metric tonnes of waste plastic, the company is producing 26,000 metric... read more